মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

  • Follow us on TwitterFollow us on Twitter
  • We are on FacebookWe are on Facebook

পরিমিত ব্যবহার করুন, দারিদ্র মোচনে ভুমিকা রাখুন!

জেনারেল ম্যানেজারের প্রতিবেদন

 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

এলাকা ভিত্তিক পল্লী বিদ্যুতায়ন কর্মসূচীকে সামনে রেখে ১৯৯৩ সালের আগষ্ট মাসে মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বাণিজ্যিকভাবে এর অগ্রযাত্রা শুরু করে। সমিতি কর্তৃক মার্চ’২০১৭ পর্যন্ত মোট ৪৯৫৯.৬২ কিঃ মিঃ বৈদ্যুতিক লাইনের আওতায় বিভিন্ন শ্রেণীর সর্বমোট ২৯৭৪৮৩ জন গ্রাহককে সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়েছে।

মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একটি সেচ নির্ভর সমিতি। এ লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তার চিহ্নিত ক্ষেত্র হিসেবে ইতিমধ্যে ৬৫৫৫টি সেচ সংযোগ দিয়ে জেলার ৭টি উপজেলার প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে। এর ফলে কৃষির সকল ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সারা বৎসরই উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মহিলা কর্মসংস্থানসহ ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বতমানে সিস্টেম আপগ্রেড থাকায় নতুন সংযোগ আব্যাহত আছে। 

পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের অভীষ্ট লক্ষ্য পল্লীবাসীর অবহেলিত জীবন যাত্রার মান উন্নত করা। এ লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বৃহৎ, মাঝারী ও ক্ষুদ্র শিল্পসহ ১৫০৮ টি শিল্প সংযোগ প্রদান করে জেলার পিছিয়ে পড়া ও বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা ও সামাজিক খাত সমূহেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। অত্র জেলার স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত এলাকায় আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম তথ্য প্রযুক্তি ও কম্পিউটার শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। আধুনিক স্বাস্থ্য সেবার সুবিধা ও ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়ে মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। মাথাপিছু বিদ্যুতের ব্যবহার পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মানুষের জীবন যাত্রার মান বেড়ে পশ্চাৎপদতা থেকে অগ্রসরতার দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

সমিতি এলাকায় প্রায়ই ট্রান্সফরমারসহ বৈদ্যুতিক লাইনের মালামাল চুরি হচ্ছে। নিয়মিত মোটিভেশন সভা, প্রচার পত্র বিলি ও মাইকিং-এর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজটি সমিতি সক্রিয়ভাবে সম্পাদন করছে। সকলের সহযোগিতায় এজাতীয় চুরির মাত্রা কিছুটা হ্রাস পেলেও একেবারে বন্ধ হচ্ছে না। তাই উক্ত চুরি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছি। আসন্ন সেচ মৌসুমে ফাঁকা মাঠে স্থাপিত ট্রান্সফরমারগুলি তালা-শিকল লাগিয়ে যাতে দিনে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা যায় সেব্যাপারে সম্মানিত গ্রাহক সদস্যদের সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। বিশেষ করে গভীর রাতে পাম্প চলাকালীন কখনও বিদ্যুৎ সরবারাহ বন্ধ হয়ে গেলে অবশ্যই দ্রুত গিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রান্সফরমারের খোঁজ নিতে হবে।

বর্তমানে জ্বীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহার করে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করি। জ্বীবাশ্ন জ্বালানীর মজুদ শেষ হয়ে গেলে সভ্যতা টিকিয়ে রাখা দুরূহ হয়ে যাবে। তাই সকলকে নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহার করার জন্য আহবান জানাচ্ছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সৌর বিদ্যুৎ। সৌর বিদ্যুৎ অফুরন্ত স্বাধীনভাবে ব্যবহার করা যায়, লোডশেডিং মুক্ত এবং পরিবেশে বান্ধব। অত্র সমিতি কর্তৃক ইতিমধ্যে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে ৪টি সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প ও ৪৩৯ টি সোলার হোম সিষ্টেম স্থাপন করা হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম ব্যাপক ভূমিকা রাখছে; ফলে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটায় গ্রাহক সেবার স্বার্থে ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র ও এসএমএস এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

সম্মানিত মানিকগঞ্জবাসী ও সুধীমন্ডলী, মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তার জন্মলগ্ন থেকে অনেক বাধা আর অন্তরায় পেরিয়ে অত্র এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক আলোকবর্তিকা হিসেবে আতœপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে ১০% হারে গ্রাহক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ বৎসরে কয়েক লক্ষ গ্রাহক সদস্য নিয়ে সমিতির সার্বিক উন্নয়ন আর অগ্রগতি এক মিলন মেলায় পরিণত হবে যা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। সমিতির এই ধারাবাহিক অগ্রগতি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও সমিতি বোর্ডের অব্যাহত সহযোগিতার সাথে সম্মানিত সকল গ্রাহক সদস্যসহ সর্বস্তরের সকল জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের আন্তরিক সহযোগিতা মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে তার কাঙ্খিত অগ্রগতি আর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে সে কামনাই করছি।

(মোঃ ওবায়দুর রহমান)
সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার

সাম্প্রতিক খবরাখবর